হানিফ পারভেজ, বড়লেখা প্রতিনিধি
রাত পোয়ালেই ভোট মৌলভীবাজার-১ (বড়লেখা-জুড়ি) আসনের এক শ্রেণির ভোটারের মাঝে চরম নীরবতা লক্ষ্য করা গেছে। নীরব এসব ভোটারদের যে প্রার্থী ভোট কেন্দ্রে নিতে পারবেন ফলাফল তার দিকেই আসবে। মৌলভীবাজার -১ আসনে মাঠ পর্যায়ে পর্যবেক্ষণ করে এমন তথ্যই পাওয়া গেছে।
পর্যবেক্ষণে জানা গেছে, বিগত একাদশ ও দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে ভোট দেওয়া থেকে বিরত ছিলেন অনেক ভোটার। সে সময় এসব ভোটার ছিলেন আওয়ামী লীগ বিরোধী। তারা ভোটে অংশগ্রহণ করেননি।
তাদের সমর্থকরাও ভোট কেন্দ্রে যায়নি। ফলে ওই দুই নির্বাচনে ভোটারদের উপস্থিতি ছিল অনেক কম। এবার ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের প্রেক্ষাপট ভিন্ন। এবার বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় পার্টি,আল ইসলাহসহ বিভিন্ন দল অংশগ্রহণ করছে।
আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ সংগঠন হওয়ায় তারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারেনি। আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে না পারলেও তাদের বিশাল একটি ভোট ব্যাংক রয়েছে এ আসনে। আওয়ামী সমর্থিত ভোটাররা ভোট কেন্দ্রে যাবেন কি না এ নিয়ে তাদের অনেকেই সন্দিহান। তারা যদি ভোটদান থেকে বিরত থাকেন তাহলে ভোট প্রদানের হার কমে যাবে। ফলে ওইসব নীবর ভোটারদের ভোট কেন্দ্রে নিয়ে আসাই হচ্ছে প্রার্থীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
একাধিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আওয়ামী সমর্থিত ভোটার. সনাতনধর্মী, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী, বামধারার অনেকেরই আসন্ন ভোটের বিষয়ে আগ্রহ কম। তারা ভোট কেন্দ্রে নাও যেতে পারেন। তবে অনেক ভোটার ধারনা করছেন তাদেরকে ভোট কেন্দ্রে নিতে পারলে সবচেয়ে বেশি লাভবান হবেন বিএনপির প্রার্থীরা।ফলে নীরব থাকা ভোটারদের ভোট কেন্দ্রে যারা নিয়ে যেতে পারবেন জয়ের পাল্লা তাদের দিকেই ভারী হবে।
তবে বিএনপির একাধিক নেতা মনে করেন, দলমত নির্বিশেষে সকলে ভোট কেন্দ্রে আসবেন। নীবর-সরব সকলেই ধানের শীষে ভোট দেবেন। মৌলভীবাজার-১ সংসদীয় আসনে ৫ জন প্রার্থী ইতিমধ্যে প্রচার-প্রচারণা শেষ করেছেন। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় পার্টি, আল ইসলাহসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা নিরবে নির্বাচনি মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন।
নীরব ভোটারদের ভোট কেন্দ্রে যেতে উদ্বুদ্ধ করছেন। নির্বাচনে বিজয়ী হলে এলাকার উন্নয়নে দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি। ভোটাররাও তাদের নানা অভিযোগ-অনুযোগ তুলে ধরছেন প্রার্থীদের কাছে।