০৮:১০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফেঞ্চুগঞ্জ সার কারখানায় চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ২

  • প্রতিনিধি
  • আপডেট সময়: ০১:৫৫:৫০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬
  • 36

ফেঞ্চুগঞ্জে শাহজালাল সার কারখানা এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় অন্তত দুইজন গুরুতর আহত হয়েছেন। বুধবার (২০ মে) দুপুর ১২টার দিকে কারখানার ভেতরে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন মোয়াজ্জেম হোসেন সাহেদ ও আব্দুল হামিদ রাজু। ঘটনার পর থেকে পুরো সার কারখানা এলাকায় উত্তেজনা ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে শাহজালাল সার কারখানায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে কয়েকটি পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল। বিশেষ করে অ্যামোনিয়া গ্যাস সিলিন্ডার লোড-আনলোড ও নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে দ্বন্দ্ব তীব্র আকার ধারণ করে। যদিও একাধিক ডিলার এ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত, নিয়ন্ত্রণ থাকে সীমিত কয়েকজনের হাতে।

অভিযোগ করে আব্দুল হামিদ রাজু বলেন, বুধবার দুপুরে অ্যামোনিয়া গ্যাস সিলিন্ডার ট্রাকে তোলার সময় মোয়াজ্জেম হোসেন সাহেদ তার ২০-২৫ জন সহযোগী নিয়ে সেখানে উপস্থিত হয়ে কাজে বাধা দেন। একপর্যায়ে সাহেদ তার কাছে চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার ওপর হামলা চালানো হয়। এতে তিনি মাথা ও হাতে আঘাত পান বলে দাবি করেন।

অন্যদিকে মোয়াজ্জেম হোসেন সাহেদের পক্ষের অনুসারী সাইফুল ইসলাম মিটু পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, রাজু সার কারখানার ‘সলিড হ্যান্ডলিং’ ঠিকাদার হিসেবে অবৈধভাবে দৈনিক মজুরিভিত্তিক শ্রমিক ব্যবহার করে কাজ পরিচালনা করছেন এবং সেখান থেকে অবৈধভাবে অর্থ উত্তোলন করছেন। এছাড়া অ্যামোনিয়া গ্যাস সিলিন্ডারের লোড-আনলোডেও তিনি চাঁদাবাজি করছেন বলে দাবি করেন। এসবের প্রতিবাদ করতে গেলে সাহেদের ওপর হামলা চালানো হয় এবং তিনি গুরুতর আহত হন।

এ বিষয়ে শাহজালাল সার কারখানার উপ-ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) হাফিজ উদ্দিন খান জানান, ঘটনার সময় তিনি কারখানার বাইরে ছিলেন। পরে জানতে পারেন কারখানার ভেতরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

ফেঞ্চুগঞ্জ থানার ওসি আবু জাফর মোহাম্মদ মাহফুজুল কবির বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে এ ঘটনায় এখনো কোনো পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

Tag :

Leave a Reply

ফেঞ্চুগঞ্জ সারকারখানার আনসার সদস্যের লাশ উদ্ধার

ফেঞ্চুগঞ্জ সার কারখানায় চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ২

আপডেট সময়: ০১:৫৫:৫০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬

ফেঞ্চুগঞ্জে শাহজালাল সার কারখানা এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় অন্তত দুইজন গুরুতর আহত হয়েছেন। বুধবার (২০ মে) দুপুর ১২টার দিকে কারখানার ভেতরে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন মোয়াজ্জেম হোসেন সাহেদ ও আব্দুল হামিদ রাজু। ঘটনার পর থেকে পুরো সার কারখানা এলাকায় উত্তেজনা ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে শাহজালাল সার কারখানায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে কয়েকটি পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল। বিশেষ করে অ্যামোনিয়া গ্যাস সিলিন্ডার লোড-আনলোড ও নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে দ্বন্দ্ব তীব্র আকার ধারণ করে। যদিও একাধিক ডিলার এ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত, নিয়ন্ত্রণ থাকে সীমিত কয়েকজনের হাতে।

অভিযোগ করে আব্দুল হামিদ রাজু বলেন, বুধবার দুপুরে অ্যামোনিয়া গ্যাস সিলিন্ডার ট্রাকে তোলার সময় মোয়াজ্জেম হোসেন সাহেদ তার ২০-২৫ জন সহযোগী নিয়ে সেখানে উপস্থিত হয়ে কাজে বাধা দেন। একপর্যায়ে সাহেদ তার কাছে চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার ওপর হামলা চালানো হয়। এতে তিনি মাথা ও হাতে আঘাত পান বলে দাবি করেন।

অন্যদিকে মোয়াজ্জেম হোসেন সাহেদের পক্ষের অনুসারী সাইফুল ইসলাম মিটু পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, রাজু সার কারখানার ‘সলিড হ্যান্ডলিং’ ঠিকাদার হিসেবে অবৈধভাবে দৈনিক মজুরিভিত্তিক শ্রমিক ব্যবহার করে কাজ পরিচালনা করছেন এবং সেখান থেকে অবৈধভাবে অর্থ উত্তোলন করছেন। এছাড়া অ্যামোনিয়া গ্যাস সিলিন্ডারের লোড-আনলোডেও তিনি চাঁদাবাজি করছেন বলে দাবি করেন। এসবের প্রতিবাদ করতে গেলে সাহেদের ওপর হামলা চালানো হয় এবং তিনি গুরুতর আহত হন।

এ বিষয়ে শাহজালাল সার কারখানার উপ-ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) হাফিজ উদ্দিন খান জানান, ঘটনার সময় তিনি কারখানার বাইরে ছিলেন। পরে জানতে পারেন কারখানার ভেতরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

ফেঞ্চুগঞ্জ থানার ওসি আবু জাফর মোহাম্মদ মাহফুজুল কবির বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে এ ঘটনায় এখনো কোনো পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।