০১:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফেঞ্চুগঞ্জে আদালতের স্থিতাবস্থা অমান্য করে জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ

  • প্রতিনিধি
  • আপডেট সময়: ০১:১০:০০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬
  • 16

 

সিলেটে সংবাদ সম্মেলনে জুবায়েরের দাবি, হামলা ও স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে।

সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে বসতবাড়ি ও জমি নিয়ে বিরোধের জেরে আদালতের স্থিতাবস্থা অমান্য করে বাড়ি দখলের চেষ্টা, হামলা এবং স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন বাদেদেউলি গ্রামের বাসিন্দা জুবায়ের আহমদ।

শনিবার (৩ অক্টোবর) সিলেটে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ করেন তিনি। জুবায়ের পেশায় একজন শ্রমিক।

লিখিত বক্তব্যে জুবায়ের আহমদ বলেন, ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার বাদেদেউলি গ্রামের দেউলি মৌজার বিএস খতিয়ান নম্বর ১৩১৮-এর ৩০৮৯ নম্বর দাগের জমিতে ১৯৫৯ সাল থেকে তাদের পরিবার বসবাস করে আসছে। ১৯৮৪ সালে একই গ্রামের মিসবাহ উদ্দিন মোস্তফা তাদের বাড়ির পাশে বসতি স্থাপন করেন।

জুবায়েরের দাবি, ২০১২ সালে তার বাবা আব্দুস সোবাহানের কাছ থেকে এক ডেসিমেল জমি ১০ হাজার টাকায় কেনার দাবি করেন মিসবাহ উদ্দিন মোস্তফা। তবে দীর্ঘ সময় পর ২০২৬ সালে এসে ওই জমি নিয়ে দাবি তোলায় তারা আপত্তি জানান। জমিতে একাধিক ওয়ারিশের স্বার্থ জড়িত থাকায় এককভাবে জমি বিক্রির বৈধতা নিয়েও তারা প্রশ্ন তুলেছেন বলে জানান তিনি।

এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে আদালতে মামলা হয়েছে। জুবায়েরের দাবি, বিরোধপূর্ণ জায়গায় আদালত স্থিতাবস্থা জারি করেছেন। কিন্তু এরপরও মিসবাহ উদ্দিন মোস্তফা ও তার লোকজন সেখানে প্রবেশ করে উত্তেজনা সৃষ্টি এবং দখলের চেষ্টা করছেন।

সংবাদ সম্মেলনে জুবায়ের অভিযোগ করেন, গত ২৮ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ঘিলাছড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রুহুল আমিন রুফুল, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল গনি তাজিবুর, কৃষকদল নেতা তারেকসহ কয়েকজন মিসবাহ উদ্দিন মোস্তফার পক্ষে বিরোধপূর্ণ জায়গা দখলের চেষ্টা করেন। এ সময় বিপুলসংখ্যক বহিরাগত লোকজনও সেখানে উপস্থিত ছিলেন বলে দাবি করেন তিনি।

জুবায়েরের ভাষ্য, এ সময় ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে মিসবাহ উদ্দিন মোস্তফার ছেলে আতাউর রহমান সুহেল ও অজ্ঞাতপরিচয় এক যুবক তার ঘরে প্রবেশ করে তাকে মারধর করেন। পরে তার স্ত্রী সাদিকা সুলতান ঘর থেকে বের হওয়ার সময় অজ্ঞাতপরিচয় ওই যুবক তার গলার স্বর্ণের চেইন নিয়ে যান বলে অভিযোগ করেন জুবায়ের। দৌড়ে বের হওয়ার সময় তার স্ত্রী পড়ে গিয়ে আহত হন বলেও জানান তিনি।

ঘটনার পর ওই রাতে স্থানীয় একটি ফার্মেসিতে তিনি চিকিৎসা নেন। পরদিন তার স্ত্রীকে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয় বলে সংবাদ সম্মেলনে জানান জুবায়ের।

এর আগে গত ৬ আগস্ট বিরোধপূর্ণ জায়গা দখলের চেষ্টা এবং তার স্ত্রী ও বাবাকে গালাগালি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে ১০ আগস্ট ফেঞ্চুগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ করেছিলেন বলেও জানান তিনি। তবে ওই অভিযোগের পরও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন জুবায়ের।

তিনি আরও বলেন, বিরোধপূর্ণ জায়গা নিয়ে এলাকায় একাধিকবার বিচার-বৈঠক হয়েছে। তাদের দাবি, সরকারি ম্যাপ ও খতিয়ান অনুযায়ী মিসবাহ উদ্দিন মোস্তফাদের চলাচলের জন্য দুটি সরকারি রাস্তা রয়েছে।

জুবায়েরের দাবি, প্রায় এক মাস আগে সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল মালিক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনেন। বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন থাকায় তিনি উভয় পক্ষকে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাসের পরামর্শ দেন।

সংবাদ সম্মেলনে জুবায়ের আহমদ ৬ আগস্ট ও ২৮ সেপ্টেম্বরের ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, তার ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং অভিযোগের বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। একই সঙ্গে জমি বিরোধের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত উভয় পক্ষের শান্তিপূর্ণ অবস্থান নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।

Tag :

Leave a Reply

ফেঞ্চুগঞ্জে আদালতের স্থিতাবস্থা অমান্য করে জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ

আপডেট সময়: ০১:১০:০০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬

 

সিলেটে সংবাদ সম্মেলনে জুবায়েরের দাবি, হামলা ও স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে।

সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে বসতবাড়ি ও জমি নিয়ে বিরোধের জেরে আদালতের স্থিতাবস্থা অমান্য করে বাড়ি দখলের চেষ্টা, হামলা এবং স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন বাদেদেউলি গ্রামের বাসিন্দা জুবায়ের আহমদ।

শনিবার (৩ অক্টোবর) সিলেটে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ করেন তিনি। জুবায়ের পেশায় একজন শ্রমিক।

লিখিত বক্তব্যে জুবায়ের আহমদ বলেন, ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার বাদেদেউলি গ্রামের দেউলি মৌজার বিএস খতিয়ান নম্বর ১৩১৮-এর ৩০৮৯ নম্বর দাগের জমিতে ১৯৫৯ সাল থেকে তাদের পরিবার বসবাস করে আসছে। ১৯৮৪ সালে একই গ্রামের মিসবাহ উদ্দিন মোস্তফা তাদের বাড়ির পাশে বসতি স্থাপন করেন।

জুবায়েরের দাবি, ২০১২ সালে তার বাবা আব্দুস সোবাহানের কাছ থেকে এক ডেসিমেল জমি ১০ হাজার টাকায় কেনার দাবি করেন মিসবাহ উদ্দিন মোস্তফা। তবে দীর্ঘ সময় পর ২০২৬ সালে এসে ওই জমি নিয়ে দাবি তোলায় তারা আপত্তি জানান। জমিতে একাধিক ওয়ারিশের স্বার্থ জড়িত থাকায় এককভাবে জমি বিক্রির বৈধতা নিয়েও তারা প্রশ্ন তুলেছেন বলে জানান তিনি।

এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে আদালতে মামলা হয়েছে। জুবায়েরের দাবি, বিরোধপূর্ণ জায়গায় আদালত স্থিতাবস্থা জারি করেছেন। কিন্তু এরপরও মিসবাহ উদ্দিন মোস্তফা ও তার লোকজন সেখানে প্রবেশ করে উত্তেজনা সৃষ্টি এবং দখলের চেষ্টা করছেন।

সংবাদ সম্মেলনে জুবায়ের অভিযোগ করেন, গত ২৮ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ঘিলাছড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রুহুল আমিন রুফুল, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল গনি তাজিবুর, কৃষকদল নেতা তারেকসহ কয়েকজন মিসবাহ উদ্দিন মোস্তফার পক্ষে বিরোধপূর্ণ জায়গা দখলের চেষ্টা করেন। এ সময় বিপুলসংখ্যক বহিরাগত লোকজনও সেখানে উপস্থিত ছিলেন বলে দাবি করেন তিনি।

জুবায়েরের ভাষ্য, এ সময় ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে মিসবাহ উদ্দিন মোস্তফার ছেলে আতাউর রহমান সুহেল ও অজ্ঞাতপরিচয় এক যুবক তার ঘরে প্রবেশ করে তাকে মারধর করেন। পরে তার স্ত্রী সাদিকা সুলতান ঘর থেকে বের হওয়ার সময় অজ্ঞাতপরিচয় ওই যুবক তার গলার স্বর্ণের চেইন নিয়ে যান বলে অভিযোগ করেন জুবায়ের। দৌড়ে বের হওয়ার সময় তার স্ত্রী পড়ে গিয়ে আহত হন বলেও জানান তিনি।

ঘটনার পর ওই রাতে স্থানীয় একটি ফার্মেসিতে তিনি চিকিৎসা নেন। পরদিন তার স্ত্রীকে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয় বলে সংবাদ সম্মেলনে জানান জুবায়ের।

এর আগে গত ৬ আগস্ট বিরোধপূর্ণ জায়গা দখলের চেষ্টা এবং তার স্ত্রী ও বাবাকে গালাগালি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে ১০ আগস্ট ফেঞ্চুগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ করেছিলেন বলেও জানান তিনি। তবে ওই অভিযোগের পরও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন জুবায়ের।

তিনি আরও বলেন, বিরোধপূর্ণ জায়গা নিয়ে এলাকায় একাধিকবার বিচার-বৈঠক হয়েছে। তাদের দাবি, সরকারি ম্যাপ ও খতিয়ান অনুযায়ী মিসবাহ উদ্দিন মোস্তফাদের চলাচলের জন্য দুটি সরকারি রাস্তা রয়েছে।

জুবায়েরের দাবি, প্রায় এক মাস আগে সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল মালিক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনেন। বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন থাকায় তিনি উভয় পক্ষকে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাসের পরামর্শ দেন।

সংবাদ সম্মেলনে জুবায়ের আহমদ ৬ আগস্ট ও ২৮ সেপ্টেম্বরের ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, তার ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং অভিযোগের বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। একই সঙ্গে জমি বিরোধের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত উভয় পক্ষের শান্তিপূর্ণ অবস্থান নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।